লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত কালীগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট (KPI) অত্র অঞ্চলের কারিগরি শিক্ষা বিস্তারে একটি প্রতিশ্রুতিশীল ও সম্ভাবনাময় নাম। বর্তমান সময়ের প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
কালীগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মূলত স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ তৈরির স্বপ্ন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত। এই অঞ্চলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে বেকারত্ব দূরীকরণ এবং স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করাই প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য।
১. যুগোপযোগী কারিকুলাম: পলিটেকনিকটি আধুনিক কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের সিলেবাস অনুযায়ী সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল এবং কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো চাহিদাসম্পন্ন বিষয়গুলোতে গুরুত্বারোপ করছে। ২. হাতে-কলমে শিক্ষা: তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক (Practical) দক্ষতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করা হয়, যাতে শিক্ষার্থীরা বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের আগেই দক্ষ হয়ে উঠতে পারে। ৩. ডিজিটাল রূপান্তর: প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে একটি "ভার্চুয়াল ইনস্টিটিউট" হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে অনলাইন লার্নিং, ডিজিটাল নোটিশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া নিশ্চিত করা হচ্ছে। ৪. সুযোগ-সুবিধা: আধুনিক ল্যাবরেটরি, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি এবং দক্ষ অভিজ্ঞ শিক্ষক মণ্ডলীর তত্ত্বাবধানে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
প্রতিষ্ঠানের বর্তমান প্রশাসন মনে করে, একটি পলিটেকনিক কেবল সার্টিফিকেট প্রদানের স্থান নয়, বরং এটি একটি কর্মসংস্থান তৈরির কেন্দ্র। তাই এখানে শিক্ষার্থীদের কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ, নেতৃত্ব এবং সৃজনশীলতা চর্চার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও চাকরির সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে ইনস্টিটিউটটি নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখে।
কালীগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অদূর ভবিষ্যতে উত্তরবঙ্গের একটি মডেল কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের নিরন্তর অনুশীলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ প্রকৌশলী তৈরির কারখানায় রূপান্তরিত হওয়ার পথে রয়েছে।
কালীগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট লালমনিরহাটের শিক্ষা মানচিত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, যেখানে জ্ঞান ও প্রযুক্তির মেলবন্ধনে গড়ে উঠছে আগামীর দক্ষ প্রজন্ম।
লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত কালীগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট বর্তমান সময়ে কারিগরি শিক্ষার এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে। একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার এই স্বপ্নযাত্রার অগ্রভাগে রয়েছেন পরিচালক জনাব খুরশীদুজ্জামান আহমেদ। তার গতিশীল নেতৃত্ব, স্বচ্ছ দূরদর্শিতা এবং শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার নিরলস প্রচেষ্টা অত্র অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
জনাব খুরশীদুজ্জামান আহমের একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষাবিদ, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে কারিগরি শিক্ষা প্রসারে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তার কর্মজীবন অধ্যবসায় এবং পেশাদারিত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। একজন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, যা তাকে প্রশাসনিক দক্ষতায় সমৃদ্ধ করেছে।
তার কর্মদর্শন মূলত তিনটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত:
একটি আধুনিক পলিটেকনিক কেবল ভবন বা যন্ত্রপাতির সমষ্টি নয়; এটি এমন একটি ইকোসিস্টেম, যা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম গ্র্যাজুয়েট তৈরি করবে। পরিচালক জনাব খুরশীদুজ্জামান আহমেরের নেতৃত্বে কালীগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট যে স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তার প্রধান দিকগুলো হলো:
১. শিল্প-প্রতিষ্ঠান সংযোগ (Industry-Institute Linkage): আধুনিক কারিগরি শিক্ষার মূল ভিত্তি হলো বাজারের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা প্রদান। পরিচালক মহোদয়ের পরিকল্পনায় রয়েছে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে অংশীদারিত্ব তৈরি করা, যাতে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পায় এবং কর্মসংস্থানের পথ সুগম হয়।
২. স্মার্ট ল্যাব ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা: বিশ্বমানের কারিগরি শিক্ষার জন্য অত্যাধুনিক মেশিনারি এবং কম্পিউটার ল্যাব অপরিহার্য। তিনি ইনস্টিটিউটের ল্যাবরেটরিগুলোকে আধুনিকীকরণের মাধ্যমে এমন একটি সক্ষমতা অর্জনে কাজ করছেন, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী সর্বশেষ প্রযুক্তির ব্যবহার শিখতে পারে।
৩. গবেষণা ও উদ্ভাবন (Innovation Hub): শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট উদ্ভাবনী প্রকল্প বা প্রজেক্টগুলোকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য একটি ‘ইনোভেশন হাব’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা তার দূরদর্শী চিন্তারই বহিঃপ্রকাশ। এতে শিক্ষার্থীরা সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করবে।
৪. শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মিথস্ক্রিয়া: শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বন্ধুত্বপূর্ণ কিন্তু দায়িত্বশীল সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে ক্লাসরুমে আনন্দময় শিখন পদ্ধতি নিশ্চিত করা তার একটি অন্যতম লক্ষ্য।
৫. টেকসই উন্নয়ন ও কর্মমুখী শিক্ষা: কালীগঞ্জ অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে তিনি এমন ট্রেড ও কারিকুলাম নির্বাচনের ওপর জোর দিচ্ছেন, যা স্থানীয় শিল্পায়নে অবদান রাখতে সক্ষম।
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নির্ভর করে তার নেতৃত্বের ওপর। পরিচালক জনাব খুরশীদুজ্জামান আহমেদ তার সততা, একাগ্রতা এবং প্রগতিশীল চিন্তাধারার মাধ্যমে কালীগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটকে একটি আদর্শ উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্রে রূপান্তর করার পথে হাঁটছেন। তার এই নিরন্তর প্রচেষ্টা শুধু কালীগঞ্জবাসীর জন্য নয়, বরং সমগ্র লালমনিরহাট জেলার কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
আমরা প্রত্যাশা করি, জনাব খুরশীদুজ্জামান আহমেরের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে কালীগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অচিরেই দক্ষ প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ গড়ার কারখানায় পরিণত হবে, যারা ডিজিটাল বাংলাদেশ ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
ই-মেইল: kzamankup@gmail.com