ভিউ: ১৮০
প্রতিষ্ঠাতা

বাংলাদেশের প্রতিটি জনপদের সাফল্যের পেছনে থাকেন এমন কিছু মানুষ, যারা আজীবন শিক্ষার আলো বিলিয়ে সমাজকে আলোকিত করেন। লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার তেমনি এক ক্ষণজন্মা পুরুষ বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মোঃ রশীদুজ্জামান ।শৈশব ও শিক্ষাজীবন ১৯৫২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাশিরাম গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তাঁর জন্ম । তাঁর পিতার নাম মরহুম করিম উদ্দিন আহমেদ এবং মাতার নাম মোছাঃ নুর জাহান করিম । কৈশোরের শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল তুষভান্ডার আর এম এম পি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে, যেখান থেকে তিনি ১৯৬৭ সালে এসএসসি সম্পন্ন করেন । এরপর সরকারি কারমাইকেল কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শেষে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭১ সালে স্নাতক এবং ১৯৭৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন ।

পেশাগত উৎকর্ষ ও কর্মজীবন তিনি তাঁর দীর্ঘ ৩০ বছরের কর্মজীবনে সরকারী করিম উদ্দিন পাবলিক কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন । তিনি কেবল প্রথাগত শিক্ষায় আবদ্ধ থাকেননি; বরং নিজেকে বিশ্বমানের করে তুলতে ১৯৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল ইউনিভার্সিটি থেকে ‘ফ্রন্ট অফিস অপারেশনস’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন এবং ১৯৮৯ সালে পেস ইউনিভার্সিটি থেকে ‘ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি’ বিষয়ে এক বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন । তাঁর এই বলিষ্ঠ প্রশাসনিক দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১৬ সালে লালমনিরহাট জেলার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান (কলেজ) নির্বাচিত হন ।

শিক্ষা বিস্তারে অনন্য অবদান ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে তিনি কালীগঞ্জের শিক্ষাব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছেন:

  • করিম উদ্দিন একাডেমি: পিতার স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে তিনি নিজ উদ্যোগে এই একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে বর্তমানে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত ।
  • কালীগঞ্জ পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট: কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে তিনি এই ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন, যা তাঁর আধুনিক চিন্তার পরিচয় দেয় ।

সামাজিক আদর্শ ও নেতৃত্ব মহান মুক্তিযুদ্ধে একজন অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়া জনাব রশীদুজ্জামান আজ কালীগঞ্জের মানুষের কাছে পরম শ্রদ্ধার পাত্র । একজন সৎ, নির্ভীক ও অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদ হিসেবে তাঁর এই নেতৃত্ব কালীগঞ্জের শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে বলে স্থানীয়দের দৃঢ় বিশ্বাস ।